আইইএর প্রতিবেদন

২০২৬ সালে এলএনজি সরবরাহে রেকর্ড প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস

২০২৬ সালে বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে রেকর্ড প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)।

২০২৬ সালে বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে রেকর্ড প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। সম্প্রতি প্রকাশিত সংস্থাটির ‘গ্যাস মার্কেট রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর বৈশ্বিক এলএনজির সরবরাহ বাড়বে ৭ শতাংশ বা ৪ হাজার কোটি ঘনমিটার। খবর আনাদোলু এজেন্সি ও রয়টার্স।

আইইএ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও কাতারে নতুন এলএনজি প্রকল্প চালু হওয়া সরবরাহ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখবে। যদিও রাশিয়ার ‘আর্কটিক এলএনজি ২’ প্রকল্পকে এ পূর্বাভাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

চলতি বছর বিশ্বের অনেক দেশ এলএনজি আমদানি কমিয়ে দিয়েছিল। আইইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে সেসব দেশ ২০২৬ সালে আবারো আমদানি বাড়াতে পারবে। ফলে বৈশ্বিক আমদানিতে নতুন গতি আসবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি আমদানিকারক দেশ চীন। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক এলএনজি আমদানি প্রবৃদ্ধিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেশটিকে চিহ্নিত করেছে আইইএ। সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের এলএনজি আমদানি ১১ শতাংশ হ্রাস পেলেও ২০২৬ সালে তা ২৫ শতাংশ বেড়ে যাবে।

এদিকে এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে কমেছে। চাহিদা কম থাকায় এবং নতুন প্রকল্প থেকে সরবরাহ বাড়ায় এলএনজির গড় মূল্য গত ১০ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় গত সপ্তাহে সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১১ ডলার ৯০ সেন্ট, যা আগের সপ্তাহের এমএমবিটিইউতে ১২ ডলার ৩০ সেন্টের তুলনায় কম। মে মাসের ১৬ তারিখের পর এটিই সবচেয়ে কম দাম।

আর্গাসের এলএনজি প্রাইসিং বিভাগের প্রধান মার্টিন সিনিয়র এ বিষয়ে জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ কয়লা ব্যবহার করছে। এতে স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি এলএনজি কেনার প্রবণতা কমে গেছে।

বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা নিয়েও পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী বছর জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে।

২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা অপেক্ষাকৃত বেশি বেড়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এর গতি কমে গিয়ে মাত্র ১ শতাংশে দাঁড়ায়। এ সীমিত প্রবৃদ্ধি মূলত ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় দেখা গিয়েছিল। গত বছর এশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ছিল স্থিতিশীল। ইউরোপে তা উল্লেখযোগ্য কমে গিয়েছিল।

২০২৫ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ হ্রাস এবং এশিয়ায় দুর্বল চাহিদার ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে চাপ তৈরি হয়। তাই এ সময় জ্বালানি পণ্যটির সীমিত সরবরাহ, অনিশ্চিত চাহিদা ও মূল্য ছিল অস্থিতিশীল। যদিও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর দাম আবারো প্রায় সংকটপূর্ব অবস্থানে ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে আইইএ।

আরও